২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে ব্যাংকটির সব সহযোগী প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের জুন শেষে এ মুনাফা ছিল ৯০৬ কোটি টাকা। একই সময়ে এককভাবে ব্র্যাক ব্যাংকের নিট মুনাফা ৬৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ৬২০ কোটি টাকা। ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল আর্নিংস কলে ব্যাংকটি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের আর্থিক ফলাফল ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম তুলে ধরে। এতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারী, গবেষণা বিশ্লেষক, পোর্টফোলিও ম্যানেজার ও পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন। এ সময় ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আর্থিক ফলাফল, পরিচালন দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ কৌশল তুলে ধরেন।
ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জুন শেষে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গ্রাহকের আমানত ২৫ শতাংশ এবং ঋণ ও অগ্রিম ১৮ শতাংশ বেড়েছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকের গ্রাহক আমানত ৯৭ হাজার কোটি এবং ঋণ ও অগ্রিম ৭৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ফলে ব্যবস্থাপনাধীন তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।
পরিচালন দক্ষতারও উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ৪৮ শতাংশ থাকা কস্ট টু ইনকাম রেশিও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কমে ৪২ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের ৪৪ টাকা ৮৪ পয়সা থেকে বেড়ে জুন শেষে ৪৯ টাকা ৩৮ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।
এছাড়া সমন্বিত রিটার্ন অন ইকুইটি (আরওই) ২১ দশমিক ৫২ ও রিটার্ন অন অ্যাসেট (আরওএ) ১ দশমিক ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নন-ফান্ডেড আয় ও ইন্টারেস্ট আয় বৃদ্ধির ফলে সমন্বিত মোট আয়ও ২৯ শতাংশ বেড়েছে।
সম্পদের মানের ক্ষেত্রেও উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ২ দশমিক ২৭ শতাংশ থাকা খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার চলতি বছরের প্রথমার্ধে কমে ২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে নেমেছে।
ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘প্রথমার্ধের এ পারফরম্যান্স ব্যাংকের ব্যবসায়িক মডেলের দৃঢ়তা, সুশাসন ও সুশৃঙ্খল বাস্তবায়নের প্রতিফলন। গ্রাহকদের আস্থার কারণেই ব্যাংক খাতের গড়ের তুলনায় বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং শক্তিশালী সম্পদমান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।’
করপোরেট, এসএমই ও রিটেইল—তিন খাতেই ব্যালান্স শিটের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শক্তিশালী ব্যালান্স শিট সম্প্রসারণ, পরিচালন দক্ষতার উন্নতি, বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিও এবং সুশৃঙ্খল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত ফল হিসেবেই এ আয় প্রবৃদ্ধি এসেছে।
আগামী দিনেও সুশাসন, উদ্ভাবন, স্বচ্ছতা ও গ্রাহকসেবার মান বজায় রেখে টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যাংকটির এমডি ও সিইও।